বনবিহারী মুখােপাধ্যায়

বনবিহারী মুখােপাধ্যায় (১৮৮৫-১৯৬৫) : চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শিল্পসাহিত্য এই দুই জগতের মধ্যে অনায়াস পদচারণায় সক্ষম এক বিচিত্র চরিত্র বনবিহারী মুখােপাধ্যায়। ব্য্গাসাহিত্যিক ও ব্যচিত্রকর হিসাবে তার খ্যাতি চিকিৎসক হিসাবেতার

দক্ষতাকে যেন ছাপিয়ে গিয়েছিল। আশৈশব মেধাবী ও খেয়ালি এই মানুষটি ছিলেন আদর্শে অনমনীয়, দায়িত্ব ও কর্তবাপরায়ণতায় অবিচল। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সাহিত্যিক বনফুল (বলাইচাদ মুখাপাধ্যায়) তাকে শিক্ষক হিসাবে পেয়েছিলেন এবং

এই বিচিত্র প্রতিভার মানুষটির অত্যন্ত নিকটে আসার সৌভাগ্য তার হয়েছিল। বনফুল তার শিক্ষকের স্মৃতি চিরন্তন করে তুলেছেন অগ্মীশ্বর উপন্যাসে। এই উপন্যাস অবলম্বনে বনফুলের ভাই অরবিন্দ মুখােপাধ্যায়ের সৃজিত চলচ্চিত্রটিও অত্যন্ত জনপ্রিয়। উপন্যাসটিতে দৃঢ়চেতা যে চিকিৎসকের ছবি পাওয়া যায় তা সাধারণভাবে অভাবনীয় মনে হলেও অতিরঞ্ছিত নয়। বনবিহারী ছিলেন এমনই এক অবিশ্বাস্য চরিত্রের মানুষ।

চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি সংস্কৃত কলেজ থেকে কাব্যতীর্থ উপাধি লাভ করেন বনবিহারী। সংস্কৃত উল্লুট শ্লোকরচনায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। অধিকার ছিল দর্শনে, নক্ষত্রবিজ্ঞানে, পক্ষীতত্ত্বে। শনিবারের চিঠি, বঙ্গবাণী, মাসিক বসুমতী, ভারতবর্ষ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত তার লেখা ব্যাকবিতা এবং কার্টুন সাহিত্যরসপিপাসু পাঠকমাত্রেরই প্রিয় ছিল। তাকে কেন্দ্র করে ‘বেপরােয়ানামে একটি গােষ্ঠী গড়ে ওঠে। ১৯২৩ সালে বিচরণ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় ঐ নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশিত হয়। নরকের কীট, দশচক্র, যােগভ্রষ্ট সিরাজের পেয়ালা প্রভৃতি রচনায় তার সাহিত্যপ্রতিভা ও সতর্ক সমাজচেতনার ছাপ স্পষ্ট। জীবনের শেষ পর্বেকলকাতায় ডাক্তারির চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে চলে যানভাগলপুরে। শিল্পী বিনােদবিহারী মুখােপাধ্যায় তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা।সোর্স – পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (বাংলা ভাষা ও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

leave your comment

Top